বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, শুল্ক কমলেও আমাদের আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নির্বাহী আদেশে স্পষ্ট বলা আছে, কিছু দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বা নিরাপত্তা চুক্তি আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। চুক্তিগুলো হয়ে গেলে এসব দেশের পণ্যে শুল্ক আরো কমে যেতে পারে। তাই বাংলাদেশকে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশী পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার নির্ধারণের প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আমাদের প্রধান পোশাক রফতানিকারক প্রতিযোগীদের তুলনায় সমান বা কাছাকাছি। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ। তবে শুল্ক কমলেও রফতানি পণ্যে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক অবধারিতভাবে পণ্য উৎপাদনের খরচ বাড়াবে। সব মিলিয়ে পোশাক রফতানিতে শুল্ক হার দাঁড়াবে সাড়ে ৩৬ শতাংশ।
এক্ষেত্রে সরকারকে আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো যেন ব্যবসা থেকে ছিটকে না পড়ে, তা সরকারকে নজরদারিতে রাখতে হবে। আমরা একান্তভাবে আশা করি, শিল্প ও দেশের স্বার্থে সরকারের সব নীতি সহায়তা চলমান থাকবে। এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের দক্ষতা বাড়বে এবং শিল্প নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পাবে।
পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হলে বাংলাদেশ কম শুল্কের সুবিধা পাবে বলেও জানান বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া পোশাকের ৭৫ শতাংশই তুলার তৈরি। পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত তুলার ২০ শতাংশ যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয় এবং সেই পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা হয়, তাহলে ব্যবহৃত তুলার দামের ওপর ভিত্তি করে শুল্ক কমানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রফতানির প্রায় ৮৭ শতাংশই তৈরি পোশাক; আর মোট রফতানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে বলেও জানান মাহমুদ হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান (বাবলু), সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম ও মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, ফয়সাল সামাদ, মো. হাসিব উদ্দিন, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, নাফিস- উদ- দৌলা, মজুমদার আরিফুর রহমান, জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, আসেফ কামাল পাশা, রুমানা রশীদ ও সামিহা আজিম প্রমুখ।